তাই আজ প্রকৃতির ওপর আধিপত্য নয় , মানুষ গড়ে তুলতে চাইছে প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রীর সম্বন্ধ | ভাব সম্প্রসারণ

তাই আজ প্রকৃতির ওপর আধিপত্য নয় ,মানুষ গড়ে তুলতে চাইছে প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রীর সম্বন্ধ ।প্রকৃতিই মানবজীবন ও জীবজগতের অস্তিত্বের মূল নিয়ামক ।
তাই আজ প্রকৃতির ওপর আধিপত্য নয় ,  মানুষ গড়ে তুলতে চাইছে প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রীর সম্বন্ধ | ভাব সম্প্রসারণ

তাই আজ প্রকৃতির ওপর আধিপত্য নয় ,
মানুষ গড়ে তুলতে চাইছে প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রীর সম্বন্ধ ।

মূলভাব : প্রকৃতিই মানবজীবন ও জীবজগতের অস্তিত্বের মূল নিয়ামক । প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তার করে প্রকৃতিকে মানব কল্যাণে নিয়োজিত করা দুঃসাধ্য । প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে , মানুষের সুখ , সমৃদ্ধি ও অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব ।

সম্প্রসারিত ভাব : প্রকৃতি বিনাশী সভ্যতা ক্ষনস্থায়ী । কেননা সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই প্রকৃতির বিভিন্ন জিনিসের ওপর নির্ভর করে মানুষ বেঁচে আছে । কারণ , অরণ্য থেকে প্রাপ্ত ফলমূল , অরণ্যে পালিত পশুপাখি খেয়েই মানুষ জীবিকানির্বাহ করে । প্রকৃতির দানে পুষ্ট হয়ে মানুষ সভ্য সমাজ গড়ল , বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হলো , ঘরবাড়ি তৈরি করল , ধীরে ধীরে গ্রাম ও নগর তৈরি করল । তারপর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রকৃতির ওপর সম্মিলিত আধিপত্য চালাতে লাগল । অনিয়ন্ত্রিতভাবে বনভূমি ধ্বংস , অবাধে প্রাণী হত্যা , নদীর গতি পরিবর্তন , পরিকল্পনাহীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ প্রভৃতি কারণে প্রকৃতি আজ বিপন্ন , এতে মানুষের অস্তিত্বকে মহা সংকটাপন্ন করে তুলেছে । ফলে ঝড় , বন্যা , খরা , অতিবৃষ্টি , অনাবৃষ্টি , ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনবরতই ঘটে চলছে । বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া , ওজোন স্তর হ্রাস পাওয়া , পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া , দক্ষিণ মেরুতে বরফ স্তর গলে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি , সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সুনামি এবং অতি সম্প্রতি বাংলাদেশে পাহাড় ধস এবং সিডরের মতো আঘাত ইত্যাদি সবই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অশনি সংকেত । ফলে যেকোনো মুহূর্তে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে নগর সভ্যতা । যেমনভাবে ধ্বংস হয়েছে মিশরীয় সভ্যতা মায়া সভ্যতা এবং সিন্ধু সভ্যতাসহ আরও অনেক সভ্যতা । প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ দেখে মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে যে , প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তার নয় , বরং সমান্তরাল মৈত্রী স্থাপনের মাধ্যমেই প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করতে হবে । অন্যথায় প্রকৃতি রূদ্র মূর্তি ধারণ করতে পারে । তাই পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ , সিএনজি চালিত ইঞ্জিনের ব্যবহার , জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে জৈব সার ব্যবহার , পরিমিত পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার , জীবনবৈচিত্র্য সংরক্ষণ , বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ , সামাজিক বনায়নের মতো পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম শুরু করে মানুষ প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যসহ প্রকৃতির পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে ।

মন্তব্য : প্রকৃতির ওপর অধিপত্য বিস্তার করে তার ফল ভোগ করা সম্ভব নয় । এজন্য চাই সহনশীলতা । সহনশীলতার সাথে মিলেমিশে কাজ করলে প্রকৃতির বৈরিতা অনেকাংশে লাঘব হতে পারে । তাই মানব সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য চাই প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রী সম্পর্ক ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন