Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Test link

পুরুষ ও ক্রিয়ার কাল কাকে বলে? ক্রিয়ার কাল কত প্রকার ও কি কি?

ক্রিয়ার যে রূপের দ্বারা ক্রিয়া ঘটার বিভিন্ন সময় বোঝায়, সেই সময়কে ক্রিয়ার কাল বলা হয়। অথবা কার্য সম্পন্ন হওয়ার সময়কেই ক্রিয়ার কাল বা কাল বলে।

পুরুষ ও ক্রিয়ার কাল

পুরুষ কী?

পুরুষ মূলতঃ সর্বনাম , কিন্তু ব্যাকরণের পরিভাষায় তা পুরুষ নামে অভিহিত । ব্যাকরণ শাস্ত্রে পুরুষ তিন প্রকার । যথা- ( ১ ) উত্তম পুরুষ , ( ২ ) মধ্যম পুরুষ ও ( ৩ ) প্রথম পুরুষ বা নামপুরুষ ।

( ১ ) উত্তম পুরুষ: যখন কেউ নিজের সম্বন্ধে বা অন্যের মারফতে নিজের সম্বন্ধে কিছু বলে , তখন যে সর্বনাম ব্যবহার করা হয় , সেই সর্বনামকে উত্তম পুরুষ বলে । যথা- আমি বাজারে যাব । আমরা আজ স্কুলে যাব না ।

এখানে ' আমি ' ও ' আমরা ' শব্দ দ্বারা নিজের সম্পর্কে বলা হয়েছে ।

( ২ ) মধ্যম পুরুষ: উপস্থিত ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য করে যে সর্বনাম ব্যবহার করা হয় , সে সর্বনামকে মধ্যম পুরুষ বলে । যেমন- তুমি কি করছ ? তোমরা হৈ - চৈ কর না ।

এখানে বক্তা উপস্থিত অন্য ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে কথাগুলো বলছে । সুতরাং তুমি ' ও ' তোমরা ' মধ্যম পুরুষ ।

( ৩ ) প্রথম পুরুষ বা নামপুরুষ - অনুপস্থিত ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলতে যে সর্বনাম ব্যবহার করা হয় , সে সর্বনামকে প্রথম পুরুষ বা নামপুরুষ বলে । যেমন- সে ঢাকায় যাবে । তারা পড়ে ।

এখানে বক্তা অনুপস্থিত কোন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এ সব উক্তি করছে । সুতরাং এখানে ' সে ' ও ' তারা ' প্রথম পুরুষ ।

কোন বাক্যে কর্তায় যে পুরুষ হয় , ক্রিয়াপদেরও সে পুরুষ হয় । কাজেই পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয় , বচনভেদে ক্রিয়ারূপের কোন পার্থক্য হয় না । যেমন-

 একবচন আমি খাই তুমি খাও সে খায় পুরুষ . উত্তম পুরুষ মধ্যম পুরুষ নাম পুরুষ বহুবচন আমরা খাই তোমরা খাও তারা খায় ।

পুরুষ একবচন বহুবচন
উত্তম পুরুষ আমি খাই আমরা খাই
মধ্যম পুরুষ তুমি খাও তোমার খাও
নাম পুরুষ সে খায় তারা খায়

ক্রিয়ার কাল

ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে কাল বলে । কোন একটি কাজের সময় তিন প্রকারের হতে পারে । যেমন-

আমি যাই । ( এখন বা বর্তমানে হয় )

আমি গিয়েছিলাম । ( অতীত বা গত সময়ে হয়েছিল । )

আমি যাব । ( ভবিষ্যতে বা পরে হবে । )

উপরের তিনটি বাক্যে আমি কখন যাই , সে সময় সম্পর্কে বলা হয়েছে । আর এ সময়ই হচ্ছে ক্রিয়ার কাল ।

ক্রিয়ার কাল প্রধানতঃ তিন প্রকার । যথা- ( ১ ) বর্তমান কাল , ( ২ ) অতীত কাল ও ( ৩ ) ভবিষ্যৎ কাল ।

বর্তমান কাল

যে ক্রিয়া বর্তমানে সম্পন্ন হয় , তার কালকে বর্তমান কাল বলে । যেমন - কণা পড়ে । মামুন স্কুলে যায় । তারা বেড়াচ্ছে ।

বর্তমান কাল চার প্রকার । যথা- ( ১ ) সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান , ( ২ ) ঘটমান বর্তমান , ( ৩ ) পুরাঘটিত বর্তমান , ( ৪ ) অনুজ্ঞা বর্তমান ।

( ১ ) সাধারণ বর্তমান কাল : যে ক্রিয়া সাধারণভাবে বর্তমানে ঘটে বা সর্বদাই হয় , তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে । যেমন সে বই পড়ে । সূর্য পূর্ব দিকে উঠে । বাগানে ফুল ফুটে

( ২ ) ঘটমান বর্তমান কাল : যে ক্রিয়া চলছে , এখনও শেষ হয়নি , তার কালকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে । যেমন সূর্য উঠছে । বালকটি দৌড়াচ্ছে । বৃষ্টি পড়ছে

( ৩ ) পুরাঘটিত বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া শেষ হয়েছে , কিন্তু তার ফল এখনও বর্তমান আছে , তার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে । যেমন আমি অঙ্কটি করেছি । ভোর হয়েছে । ফুল ফুটেছে

( ৪ ) অনুজ্ঞা বর্তমান - যে ক্রিয়া বর্তমানের কোন আদেশ , নির্দেশ বা উপদেশ বুঝায় তার কালকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে । যেমন মন দিয়ে পড়াশুনা কর । বাজারে যাও । মিথ্যা কথা বলো না ।

ঐতিহাসিক বর্তমান কাল - ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা কখনো কখনো অতীত কালে না হয়ে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালে হয় । একে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে । সাধারণতঃ অতীত ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে যেন এখনই ঘটছে — এরূপ ভাব প্রকাশ করতে এ কাল ব্যবহৃত হয় । যেমন-

১৬০৫ খ্রীস্টাব্দে জাহাঙ্গীর সিংহাসনে আরোহণ করেন । ( করেছিলেন — এর পরিবর্তে ) । পলাশীর যুদ্ধে নাবব সিরাজ - উদ - দৌলার ভাগ্য পরীক্ষা হয় । ( হয়েছিল — এর পরিবর্তে ) ।

অতীত কাল

যে ক্রিয়া পূর্বে বা গত সময়ে শেষ হয়েছে , তার কালকে অতীত কাল বলে । যেমন — মতি বাজারে গিয়েছিল । রহিম বাড়ী এসেছিল ।

অতীত কাল চার প্রকার । যথা- ( ১ ) সাধারণ অতীত , ( ২ ) নিত্যবৃত্ত অতীত , ( ৩ ঘটমান অতীত ও ( ৪ ) পুরাঘটিত অতীত ।

( ১ ) সাধারণ অতীত কাল : যে ক্রিয়া ইতিপূর্বেই শেষ হয়েছে , তার কালকে সাধারণ অতীত কাল বলে । যেমন - বাবা এলেন । সে খেল

( ২ ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল : যে ক্রিয়াটি অতীতে হত বা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল , তার কালকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে । যেমন - মা প্রত্যহ কোরান পড়তেন । আমি সকালে বেড়াতাম

( ৩ ) ঘটমান অতীত কাল : যে ক্রিয়াটি অতীতে হচ্ছিল , তখনো শেষ হয়নি , তার কালকে ঘটমান অতীত কাল বলে । যেমন- আমরা খাচ্ছিলাম । মেয়েটি কাঁদছিল । লোকটি দৌড়াচ্ছিল

( ৪ ) পুরাঘটিত অতীত কাল : যে ক্রিয়াটি অতীতে শেষ হয়েছিল এবং তার ফল আর বর্তমান নেই , তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে । যেমন - আমি খেয়েছিলাম । সে একটি গরু কিনেছিল

ভবিষ্যৎ কাল

যে ক্রিয়া পরে হবে , এখনও শুরু হয়নি , তার কালকে ভবিষ্যৎ কাল বলে । যেমন - আমি স্কুলে যাব । তারা মাছ ধরবে ।

ভবিষ্যৎ কাল চার প্রকারের । যথা- ( ১ ) সাধারণ ভবিষ্যৎ , ( ২ ) ঘটমান ভবিষ্যৎ , ( ৩ ) পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ ও ( ৪ ) ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা

( ১ ) সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল : যে ক্রিয়া পরে ঘটবে , তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে । যেমন - করিম আসবে । সুজন খাবে ।

( ২ ) ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল : যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে ঘটতে থাকবে , তার কালকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে । যেমন- তারা আসতে থাকবে । আমরা পড়তে থাকব ।

( ৩ ) পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল : যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে হয়তো হবে বা হয়ে থাকতে পারে , তার কালকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে । যেমন - বালিকাটি হয়তো কেঁদে ফেলবে । তুমি বোধ হয় সংবাদটি শুনে থাকবে ।

( 8 ) ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা কাল : যে ক্রিয়া ভবিষ্যতের কোন আদেশ , অনুরোধ , উপদেশ বা নির্দেশ বুঝায় , তার কালকে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা কাল বলে । যেমন - টাকাটা মনে করে আনবে । কাল একবার আসবে । সদা সত্য কথা বলবে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

© Abc Ideal School. All rights reserved. Developed by Jago Desain