বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য (প্রবন্ধ রচনা)

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,বাংলাদেশকে প্রকৃতির লীলানিকেতন বলা হয় । লীলাময়ী প্রকৃতি মুক্তহস্তে আপন সৌন্দর্য দান করে এ দেশকে অপরূপ সাজে সজ্জিত করেছ

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য


এছাড়াও আরো যে বিষয় সম্পর্কে লিখতে পারবে:

👉বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
👉রূপসী বাংলাদেশ
👉গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য
👉প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরা বাংলাদেশ
👉বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্য
👉বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য
👉প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বাংলাদেশ

    সূচনা :

    নদ - নদী বধৌতে সবুজ - শ্যামল বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি । সৌন্দর্য - সুষমায় , শস্য - সম্পদে ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরা এরূপ দেশ পৃথিবীতে বিরল । এদেশেরই রূপে ও সৌন্দর্যে বিমােহিত হয়ে বহু কবি তাদের নিপুণ লেখনীর সরস তুলিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণাঢ্য ছবি এঁকেছেন । অনেক বিদেশি পর্যটক বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমােহিত হয়েছেন ।


    বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি :

    আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত একটি ছােট্ট দেশ । মােটামুটি সমতল ভূমির দেশ হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে রয়েছে বেশকিছু পাহাড় । ময়মনসিংহ সীমান্তে আছে নিচু পাহাড় , ভাওয়াল আর মধুপুর এলাকায় গড় । দক্ষিণাঞ্চলে নদী - নালা , উত্তরাঞ্চলে সমতল ভূমির ধু - ধু করা মাঠ শুকনাে মৌসুমে আনে মরুভূমির ঊষরতা । দেশের দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর আর কিছু দ্বীপাঞ্চল । এই নিয়ে বাংলাদেশের ভূ - প্রাকৃতিক গঠন । ছােট দেশ হলেও এখানকার বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির সৌন্দর্যময়তা সবারই দৃষ্টি আকৃষ্ট করে । একদিকে যেমন সমুদ্রের কলগঞ্জনে মুখরিত , অপরদিকে তেমনি পাহাড় , টিলা ও বন - বনানীর সবুজ সার । নদী - নালা পরিবৃত্ত বিশাল বনাঞ্চল দক্ষিণবঙ্গের এক বিচিত্র রূপ । তেমনি সমতল ভূমিতে সবুজের বিচিত্র সমারােহ । এভাবে আমাদের দেশের ছােট্ট পরিধিতে প্রকাশ পায় প্রাকৃতিক রূপের লীলাখেলা । কবির ভাষায়-

    জগতের মাঝে কত বিচিত্র তমি হে

    তুমি বিচিত্র রূপিনী ।


    গ্রাম বা পল্লির দৃশ্য :

    প্রায় পঁচাশি হাজার ছােট - বড় গ্রামে অধ্যুষিত এ বাংলাদেশ । তাই হয়তাে এদেশের নাম গ্রামবাংলা । এর প্রতিটি গ্রামই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা - নিকেতন । গ্রামের অবারিত সবুজ মাঠ , ফল - ফুল শােভিত বন - বীথিকা , অরণ্যানীর মনোরম শােভা , নদীতীর , শাপলা - শালুকের বিল , শস্য - শ্যামল ক্ষেত সত্যি অপূর্ব । তাই তাে কবি বলেন-

    কোন দেশেতে তরুলতা , সকল দেশের চাইতে শ্যামল ?
    কোন দেশেতে চলতে গেলেই দলতে হয়রে দুর্বা কোমল ?
    কোথায় ফলে সােনার ফসল , সােনার কমল ফোটে রে-
    সে আমাদেরই বাংলাদেশ , আমাদেরই বাংলা রে।

    নদ - নদীর দৃশ্য :

    বাংলাদেশ নদ - নদীর দেশ । পদ্মা , মেঘনা , যমুনা , সুরমা প্রভৃতি অসংখ্য নদ - নদী গ্রামবাংলার বুককে সরস , উর্বর , শস্য শ্যামল করে প্রবাহিত হচ্ছে । এসব নদীর দৃশ্য নয়ন - মনােহর । এদেশের নদ - নদী বর্ষায় কানায় কানায় ভরে যায় । নদ - নদীর তরঙ্গায়িত বুকে লাল - সাদা পাল উড়িয়ে অসংখ্য নৌকা চলাচল করে । নদীতীরের ঝাউবন , কাশবন , নদীবক্ষে জেগে ওঠা বালুচরের দৃশ্য হয়ে ওঠে অপূর্ব । জোছনা রাতে রূপালি নদীতে মাঝি প্রাণ খুলে গেয়ে ওঠে-

    “ মন মাঝি তাের বৈঠা নে রে

    আমি আর বাইতে পারলাম না । ”


    বিভিন্ন ঋতুতে বাংলার দৃশ্য :

    বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য নিহিত রয়েছে এর ঋতু বৈচিত্র্যের মধ্যে । বারাে মাসে ছয় ঋতুর আগমনে সৌন্দর্যের বৈচিত্র্যময় প্রকাশ ঘটে এদেশের প্রকৃতিতে ।

    গ্রীষ্মকাল : গ্রীষ্মের প্রখর সূর্যের তাপে মাঠঘাট শুকিয়ে যায় । গাছপালা , তৃণলতা দগ্ধীভূত হয় । এ সময় আম , জাম , লিচু , কাঁঠাল প্রভৃতি মৌসুমি ফল পাকতে শুরু করে ।

    বর্ষাকাল : বর্ষার আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে যায় । অবিরাম বৃষ্টি শুরু হয় । মাঠঘাট , নদী - নালা , খালবিল পানিতে ভরে যায় । বনে বনে কদম ও কেয়ার গন্ধ সুরভি ছড়ায় । বর্ষার আধিক্যে প্লাবন এসে গ্রামবাংলাকে প্লাবিত করে দেয় ।

    শরৎকাল : রূপালি জোছনা নিয়ে আবির্ভূত হয় শুভ্র - বসনা শরৎ রানি । এ সময় জলহারা সাদা মেঘের দল পেঁজা তুলাের মতাে আকাশে ভেসে বেড়ায় । শিশিরের হিমের পরশে ফোটে শেফালী আর কামিনী ।

    হেমন্তকাল : হেমন্তের আগমনে মাঠের শস্যক্ষেত হয়ে ওঠে হেমবরণী । এ সময় প্রকৃতি ধারণ করে এক অপরূপ রূপ । এ সময় রাতে খুব শিশির ঝরে ।

    শীতকাল : শীত ঋতুর আবির্ভাবে প্রকৃতির বুকে জাগে বিষন্নতা । বনে পাতা - ঝরার পর্ব শুরু হয় । চারদিক শুকনাে , বিবর্ণ ও শ্রীহীন হয়ে পড়ে । তবে শূন্য মাঠে হলদে রঙের সরষে ফুলের সমারােহ অপূর্ব শ্রীতে ভরিয়ে দেয় । অনেক বেলা পর্যন্ত কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে গ্রামগুলাে ঘুমায় ।

    বসন্তকাল : বসন্তকালে তরুলতার বুকে জাগে পুলক শিহরণ । এ সময় গাছপালা , তৃণলতা পত্রে - পুষ্পে হয় সুশােভিত । বন - বনানীতে মধু মক্ষিকার দল তােলে গুঞ্জন । কোকিলের কুহুতান , ফুলের মধুর সুবাসে জীবজগতে জাগে প্রাণ - চাঞ্চল্য । শিমুল , পলাশ , অশােকের বনে লাগে আগুনের মেলা ।


    মানবমনে প্রভাব :

    প্রকৃতির এই বিচিত্র সৌন্দর্য এদেশের মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করেছে । এখানকার জীবন প্রকৃতির সাথে মিলে মিশে গড়ে উঠেছে । শান্ত জীবনের বৈশিষ্ট্য যেন প্রকৃতিই দান করেছে । তাই এদেশের মানুষ তাদের কাব্য সাহিত্যে প্রকৃতির লীলাময় রূপের প্রতিফলন ঘটিয়েছে ।


    উপসংহার :

    গ্রামবাংলার প্রকৃতির তুলনা নেই । এদেশের কুটিরঘেরা পল্লি , মাঠে সবুজের সমারােহ , দীঘির কালাে জলে হংস মিথুন , সারি সারি তাল আর নারকেল গাছ বাংলার সৌন্দর্য সম্পদ । পৃথিবীর বুকে একমাত্র বাংলাদেশেই বছরে ছয়টি ঋতুর আগমন ঘটে । তাছাড়া বাংলাদেশের নাতিশীতােষ্ণ জলবায়ু এদেশের প্রকৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য । তাই কবি মুগ্ধচিত্তে গেয়েছেন-

    “ এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি ,

    সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি । ”


    আরো পড়ুন:

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন