যৌগিক , রূঢ়ি এবং যােগরূঢ় শব্দ কি?| বাংলা ব্যাকরণ

বাংলা ভাষায় শব্দসমূহকে প্রধানতঃ দু'ভাগে ভাগ করা যায় । যথাঃ মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ । মৌলিক শব্দগুলােকে বিচার বিশ্লেষণ করা যায় না ---

যৌগিক , রূঢ়ি এবং যােগরূঢ় শব্দ


বাংলা ভাষায় শব্দসমূহকে প্রধানতঃ দু'ভাগে ভাগ করা যায় । যথা ( ১ ) মৌলিক শব্দ ও ( ২ ) সাধিত শব্দ । মৌলিক শব্দগুলােকে বিচার বিশ্লেষণ করা যায় না , কেননা এগুলাে ভাষার মূল উপকরণ । মৌলিক শব্দের সঠিক প্রতিশব্দ পাওয়া কঠিন । কেবলমাত্র ব্যাখ্যামূলক বাক্যাংশের সাহায্যে এদের অর্থ বুঝা যায়।

উদাহরণস্বরূপ ‘ গােলাপ ' একটি ফুলের নাম । অন্য কোন প্রতিশব্দ দিয়ে এর সঠিক পরিচয় দেয়া কঠিন । ব্যাখ্যা ও উদাহরণ দিয়ে গােলাপ শব্দটি বুঝানাে যেতে পারে , তবে বহু বাক্য দ্বারাও এর সঠিক ধারণা দেয়া যায় না ।

কিন্তু গােলাপী ( গােলাপী + ঈ প্রত্যয় ) বললে আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে , এমন কোন রঙ যা গােলাপ ফুলের রঙের মত । সুতরাং , এক্ষেত্রে ‘ গােলাপ ' একটি মৌলিক শব্দ এবং গােলাপী একটি প্রত্যয় সাধিত শব্দ ।

অর্থের দিক দিয়ে বিচার করলে বাংলা শব্দসমূহকে প্রধানতঃ তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায় । যথা- ( ১ ) যৌগিক শব্দ , ( ২ ) রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ ও ( ৩ ) যােগরূঢ় শব্দ

( ১ ) যৌগিক শব্দ — যে সকল শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে , তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে । শব্দের যে অর্থ হওয়া উচিত , যৌগিক শব্দ তাই প্রকাশ করে । যেমন-

কর্তব্য - /‌কৃ + তব্য = অর্থ — যা করা উচিত ।

পড়ুয়া - /পড় + উয়া = অর্থ- যে পড়াশুনায় আগ্রহশীল ।

বাবুয়ান– /বাবু + আনা = অর্থ - বাবুর ভাব ।

উপরের উল্লিখিত সমস্ত শব্দই প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী নবগঠিত শব্দগুলাের অর্থ হয়েছে ।

( ২ ) রূঢ়ি শব্দ — যে সকল শব্দ মূল শব্দের অর্থ অনুযায়ী না হয়ে অন্য কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে , তাদেরকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে । যেমন- ‘ হস্তী ’ শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয়গত অর্থ হল “ হস্ত ( হাত ) আছে যার ” কিন্তু রূঢ়ি অর্থ হল , হাতী — একটি সুপরিচিত বিরাট পণ্ড ।

তদ্রুপ ‘ পাঞ্জাবী ' শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয়গত অর্থ হল – পাঞ্জাব প্রদেশের অধিবাসী , কিন্তু রূঢ়ি অর্থে লম্বা ঝুলযুক্ত একটি জামা বিশেষ।

সন্দেশ ’ শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয়গত অর্থ হল , ' সংবাদ ' , কিন্তু রূঢ়ি বা বিশেষ অর্থে এক প্রকার মিষ্টান্ন বুঝায় ।

( ৩ ) যােগরূঢ় শব্দ — সমাসবদ্ধ যে সকল শব্দ সমস্যমান পদগুলাের অর্থ অনুযায়ী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে , তাদেরকে যােগরূঢ় শব্দ বলে । যেমন - পঙ্কজ শব্দের অর্থ পঙ্কে বা কাদায় জন্মে যা । পঙ্কে বা কাদায় শৈবাল , শালুক , পদ্মফুল , কেঁচো ইত্যাদি অনেক কিছুই জন্মিতে পারে , কিন্তু পঙ্কজ শব্দটি একমাত্র পদ্মফুলকেই বুঝায় । তাই পঙ্কজ একটি যােগরূঢ় শব্দ ।

তদ্রুপ ' জলদ ' শব্দের অর্থ , যে জল দান করে , কিন্তু বিশেষ অর্থে ‘ জলদ ' বলতে মেঘ বুঝায় ।

জলধি ' শব্দের অর্থ জল ধারণ করে যে , এমন কলসী বা আধার , কিন্তু বিশেষ অর্থে ‘ জলধি ’ বলতে সমুদ্রকে বুঝায় । তাই জলধি ’ একটি যােগরূঢ় শব্দ।

এরূপ রাজপুত ' শব্দের সাধারণ অর্থ রাজার পুত্র , কিন্তু যােগরূঢ় শব্দ হিসাবে এর অর্থ হল , একটি জাতি বিশেষ ( ভারতের রাজপুতনার যােদ্ধৃ জাতি রাজপুত ) ।


আরো পড়ুনঃ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন